পাকিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা চারশ

ভারি বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া বন্যা- ভূমিধসে পাকিস্তানে মৃতের সংখ্যা প্রায় চারশ হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
গতকাল মঙ্গলবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্যেই আবহাওয়া অফিস সপ্তাহজুড়ে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু গ্রাম ভেসে গেছে, অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ এবং বহু বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে।
এদিকে দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই ৩৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও কয়েক ডজন মৃত্যুর ঘটনায় মোট সংখ্যা ৪০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম দালোরিতে উদ্ধারকর্মীরা কাদামাটি ও পাথরের নিচে জীবিতদের সন্ধান করছেন।
গ্রামবাসী ফজল আকবর আকস্মিক এ বন্যাকে ‘অত্যন্ত ভয়ংকর’ বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘এত দ্রুত সব ঘটে গেল যে কেউ প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগও পায়নি। মসজিদ থেকে ঘোষণা আসার পরই গ্রামবাসীরা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২০ মিনিটেরও কম সময়ে আমাদের গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।‘
এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার থেকে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলেও ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে।
এনডিএমএ চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিক জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে এবং মাসের শেষে আরও এক দফা বৃষ্টি শুরু হবে।
এনডিএমএ-এর তথ্যমতে, গত ২৬ জুন মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার।
এর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গিয়েছিল এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।