শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪.কার্তিক.১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:২৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতির আবেদন নাকচ

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতির আবেদন নাকচ
ফাইল ফটো

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন না সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বৈঠকে তাঁদের করা অনুমতি চেয়ে আবেদনগুলো সর্বসম্মতিক্রমে নাকচ করা হয়েছে। একাধিক যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে এসব আবেদন বাতিল করা হয় বলে বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের কোনো প্রচলন বা নজির নেই। এমনকি শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের অনেক দেশের আদালতেও বিদেশি আইনজীবীরা সরাসরি মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।

বার কাউন্সিলের মতে, বিদেশি কোনো আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি পেশাগত অসদাচরণ করলে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা বা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিধান বার কাউন্সিল আইনে নেই। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিদেশি আইনজীবীদের বাংলাদেশের আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আসামিপক্ষের দেশীয় আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ বিদেশি আইনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চাওয়া পাঁচ আসামি হলেন—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত একাত্তর টিভির সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

এই পাঁচ আসামি নিজ নিজ পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্যরা এসব আবেদনের বিষয়ে নিজ নিজ মতামত দেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে আবেদনগুলো নাকচ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার পর লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে।