রোববার, ০৩ মার্চ ২০২৪ , ১৯.ফাল্গুন.১৪৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ১২ জানুয়ারি ২০২৪

আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকার: রিজভী

আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকার: রিজভী
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী, সংগৃহীত

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে ‘একদলীয় ফ্যাসিবাদের হুংকারে আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকার’ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার, ডামি এজেন্ট, ডামি পর্যবেক্ষক, ডামি ফলাফল, ডামি এমপি, ডামি শপথের মধ্য দিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ওয়ান ইলেভেনের কৃষ্ণতম দিবসে একদলীয় ফ্যাসিবাদের হুংকারে আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্ব এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে জনগণ ডামি নির্বাচন বর্জন করে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রক্রিয়া, ব্যক্তি, ফলাফল, শপথ, সংসদ, সরকার সবকিছুই প্রত্যাখ্যাত, অগ্রহণযোগ্য।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই সরকারের গঠনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ভুয়া ভোট শেষ হতে না হতেই শেখ হাসিনা নিশিরাতের সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গেজেট জারি, তড়িঘড়ি শপথ ও নজিরবিহীন দ্রুততায় সরকার গঠনের ঘটনা প্রমাণ করে এক অজানা ভীতি-আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে তাকে। সব কিছু অবৈধ-ভুয়া আর জালিয়াতির আবর্তে তাসের ঘরের ওপর সিংহাসন পাতলে এমন নির্ঘুম অনিশ্চয়তা আতঙ্কে জীবন পতিত হয়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এই মন্ত্রিসভা নিয়ে আমরা কি বলবো? এটা ডামি… এই মন্ত্রিসভা নিয়ে কথা বলতে চাই না। যদি একটা বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে কিছু হতো, তাহলে বলা যেতো। এটা তো সব দিক থেকে থেকে বর্জন করেছে জনগণ।

২৮ অক্টোবর সমাবেশের ঘটনায় টানা ৭৫ দিন বন্ধ থাকা নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খোলার পর এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলেন রিজভী। এতদিন তিনি আত্মগোপনে থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য উপস্থাপন করতেন।

তিনি বলেন, আবারও অনেক দিন পরে আপনাদের সঙ্গে দেখা হলো। আমরা জানি না, আমাদের পরিস্থিতি, পরিণাম কী হবে? আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে আছি। আপনারা এর মধ্যেও সহযোগিতা করেছেন, এজন্য আমি কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
 
রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনটি ছিল গণতন্ত্রকামী জনগণের আন্দোলনের পক্ষে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচন বর্জনের পক্ষে একটি সুস্পষ্ট গণরায়। এই ডামি সরকার ওয়ান ইলেভেনের ধারাবাহিকতা মাত্র।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির এই দিনে গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশার মাধ্যমে দেশটাকে প্রভুদের করদরাজ্যে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল মন্তব্য করেন রিজভী বলেন, তারই ধারাবাহকতায় আবারও সেই একই দিনে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলো ডামি ভোটের অসাংবিধানিক, প্রভুদের আজ্ঞাবাহী হাসিনার সরকার। দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র তারা সফল করলো। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের বিনিময়ে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালের দ্বিতীয় সংস্করণ চালু করলেন শেখ হাসিনা। বিদেশি পত্রপত্রিকা, মিডিয়া এবং রাজনীতি বিশ্লেষকরা সোচ্চার কণ্ঠে বলছে—বাংলাদেশে একতরফা একদলীয় ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্র কায়েম করেছেন শেখ হাসিনা। এটা বাকশাল ২.০।

সংবাদ সম্মেলন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা জেলা সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আমিনুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের নাদিয়া পাঠান পাপন, ড্যাবের তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।