কাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নভেম্বর থেকে মালয়েশিয়া কর্মী পাঠানো শুরু
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার থেকে শুরু হবে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
বুধবার উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ শীর্ষক অভিবাসন সংলাপে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশের আশা করা হচ্ছে। মেডিকেল কার্যক্রম শুরু হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বুধবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ভেরিফায়েড ফেসুবক পেইজে জানিয়েছে ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত সোয়া ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়া যেতে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯০ কর্মী যেতে পেরেছিলেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সেবার ১৭ হাজার কর্মী যেতে পারেনি। সেবার কর্মী প্রতি ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও গড়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় সফরে দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আলোচনা হয়। গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিওসিএমএস। ২৮ আগস্ট সরকারি রিক্রটিং এজেন্সি বোয়েসেলসহ আরও ৩১৩টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে।
২০১৬ সালে ১০ এজেন্সি এবং ২০২২ সালে ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া। যারা পরবর্তীতে সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পায়। এবারের ২৫ এজেন্সিকেও সিন্ডিকেট বলা হচ্ছে।
যদিও মন্ত্রণালয় গত ১৫ অক্টোবর জানায় ৩৩৮টি এজেন্সিই কর্মী পাঠাতে পারবে। এতে বলা হয়, প্রথম ধাপে অনুমোদিত বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীর কাছ থেকে নিজ উদ্যোগে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে। যে এজেন্সি চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে, দ্বিতীয় ধাপে সেই এজেন্সি কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তৃতীয় ধাপে মালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা বা অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। চতুর্থ ধাপে বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ছাড়পত্র নিতে পারবে তালিকাভুক্ত যে কোনো এজেন্সি। বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র দিতে পারবে বোয়েসেলসহ আরও ২৫টি এজেন্সি। জনশক্তি ব্যবসায়ীরা সমকালকে বলেছেন, তৃতীয় এবং চতুর্থধাপের কারণে ফের ‘সিন্ডিকেট’ হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
প্রথম পর্যায়ে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, তাঁদের যাতায়াত পুরোপুরি বিনা খরচে হবে না। বিমান ভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা ও সার্ভিস চার্জসহ মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে. কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ৩১ অক্টোবরের আগে করা স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না।
আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দিতে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট কাগজ জমা দিতে হবে। অবৈধ বা অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল[email protected])।
















