২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০ ইংরেজি, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
Find us on facebook Find us on twitter Find us on you tube RSS feed
প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি
25 May 2017   07:35:38 PM   Thursday BdST A- A A+ Print this E-mail this

অ্যামিকাস কিউরিদের অভিমত

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত সংসদ নেবে কেনো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
পলিটিক্সবিডি.কম

বিচারপতিদের অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল না থাকলে অরাজকতা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নেয়া ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানিতে গতকাল অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে এই মত দেন তিনি। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অপসারণ নিজ নিজ বিভাগের মাধ্যমে হলে বিচাপতিদের বেলায় কেন তা জাতীয় সংসদে যাবে সেই প্রশ্ন তোলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। গতকাল সপ্তম দিনের শুনানি হয়েছে। আগামী রবিবার আবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ছাড়াও শুনানিতে মতামত উপস্থাপন করেছেন আরো দুজন অ্যামিকাস কিউরি। তারা হলেন- বিচারপতি টি এইচ খান ও ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।
এদিকে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ তার মতামত উপস্থাপনের সময় বলেন, ‘তোরে জজ বানাইছে ক্যাডা’ পত্রিকায় এ রকম দেখেছি। যারা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এ রকম কথা বলেন, তাদের হাতে এটা (বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা) ছেড়ে দেবেন? তখন জুডিশিয়ারির স্বাধীনতা থাকবে?’
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল না থাকলে বিচার বিভাগে অরাজকতা হবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আর এটা (ষোড়শ সংশোধনী) যদি হয়ে যায় তাহলে হাইকোর্টের জজদের তো আপনি (প্রধান বিচারপতি) কিছু বলতে পারবেন না। ওনারা যদি ১১টায় আসেন, তখনো কিছুই বলতে পারবেন না। অথবা খাস কামরায় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যখন কথা বলবেন, তখন সংসদ কি দেখবে? এটা সংসদ জানবেও না।’
জাতীয় সংসদে বিচারপতিদের নিয়ে আলোচনার বিষয়ে এই সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ নেই। সেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সদস্যরা আলোচনা করেছেন। কিন্তু স্পিকার টু শব্দ করেননি।’ এসময় বিচারপতিদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা-দীক্ষায় সম্মানে আপনারা ক্লাসে। আপনাদের সম্মান থাকবে না? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে না? তারা (সাংসদরা) আপনাদের নিয়ে এ রকম মন্তব্য করে।’
এছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অপসারণ নিজ নিজ বিভাগের মাধ্যমে হলে বিচাপতিদের বেলায় কেন তা সংসদে যাবে সেই প্রশ্ন তোলেন এই অ্যামিকাস কিউরি। তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্ভিসের ব্যক্তিদের কারা অপসারণ করে? পুলিশের কারা করে? সেক্রেটারিদের কারা করে? আপনি? সংসদ? কেউ না। তাদের উপরস্থরা অপসারণ করে। অর্থাৎ সহকারী সচিবদের তদন্ত করে যুগ্ম সচিবরা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। মিলিটারিরটা তাদের ডিসিপ্লিনারিতে আছে। তাহলে আপনাদেরটা কেন পার্লামেন্টে যাবে। সচিব, পুলিশ এটা তো সংসদে যাচ্ছে না। তাহলে এটা কেন?
আরো দুই অ্যামিকাস কিউরি আদালতে যা বললেন: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতাসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সপ্তম দিনের আপিল শুনানিতে তিন অ্যামিকাস কিউরি নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পৃথিবীর অনেক দেশই ‘পার্লামেন্টারি রিম্যুভাল’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে নিজেদের মতামত দিয়েছেন তারা।  অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত উপস্থাপন শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
ষোড়শ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত মতামত উপস্থাপনকালে বিচারপতি টি এইচ খান ষোড়শ সংশোধনীকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মতামত দিয়েছেন। গতকাল সকালে আপিল বিভাগে মতামত উপস্থাপনের পর তার ছেলে আইনজীবী আফজাল এইচ খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। টি এইচ খান আদালতকে আরো বলেন, অনেক অনেক কথা হবে, কিন্তু আপনাদের উচিত জুডিশিয়ারি রক্ষা করা। তিনি আরো বলেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর সমাধান না করে সরকার চলে গেছে ষোড়শ সংশোধনীতে।
‘পার্লামেন্টারি রিম্যুভাল’ কোনও দেশেই কার্যকর হতে পারছে না: ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম তার মতামত উপস্থাপনের পর আদালত থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক যেসব আইন-কানুন জাতিসংঘ থেকে শুরু করে কমনওয়েলথ’র দেশগুলো মেনে চলে। সব জায়গায় জুডিশিয়ারির দক্ষতা, নিয়োগ বা যে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নিতে হলে, সেটা জুডিশিয়ারিই করে। আমাদের এখানেও সেরকম পদ্ধতি চালু আছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিষয়টি দেখবে। ‘পার্লামেন্টারি রিম্যুভ্যাল’ কোনও দেশেই কার্যকর হতে পারছে না। বেশিরভাগ দেশই এটা থেকে সরে আসছে। দুনিয়াজোড়া যে অবস্থান দেখছি, সেখানে ‘সেলফ ডিসিপ্লিনড অ্যাণ্ড সেলফ মনিটরিং’র কথাই বলা হচ্ছে। জুডিশিয়ারি অসদাচরণ হয়েছে মনে করলে জুডিশিয়ারিই সেটা ঠিক করবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি। এখন বিবেচনার বিষয়টি আদালতের।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

নিরাপত্তা ও অপরাধ-এর সর্বশেষ

প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি

সম্পাদক : আবু জাফর সূর্য

কপিরাইট © 2020 পলিটিক্সবিডি.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com