২ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ইংরেজি, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Find us on facebook Find us on twitter Find us on you tube RSS feed
প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি
24 Jun 2017   01:48:12 PM   Saturday BdST A- A A+ Print this E-mail this

আগের ভ্যাট আইনই বহাল থাকছে

আওতা বাড়ানো হচ্ছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
পলিটিক্সবিডি.কম
আগের ভ্যাট আইনই বহাল থাকছে আওতা বাড়ানো হচ্ছে

নতুন ভ্যাট আইন থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসছে সরকার। প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ একক ভ্যাটহার ব্যাপক সমালোচনা এবং এনিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আপত্তি ওঠার পর এক-দুই বছরের জন্য তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন বহাল রেখেও কীভাবে অতিরিক্ত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়, এখন সে উপায় খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর কাজ করছে রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি।
জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ও ভ্যাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ওই বৈঠকে ভ্যাট আইন স্থগিত-পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ১৫ শতাংশের পরিবর্তে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট আরোপ করলে কোন কোন পণ্য ও সেবা থেকে রাজস্ব কমবে, তার একটি খসড়া উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হলে বাড়তি ভ্যাট আদায় করতে পুরনো আইনের কী কী পরিবর্তন দরকার হতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক উপস্থিত উর্ব্ধতন এক কর্মকর্তা জানান।
বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, নতুন আইন বাস্তবায়ন না হলে তা অর্জন কঠিন হবে। তার পরও কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সেজন্য বিভিন্ন পণ্যে শূন্য থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মোট আটটি ধাপে ভ্যাট আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে।
এর মধ্যে ৮ থেকে ১০টি খাতের জন্য সমহারে সাড়ে ৭ শতাংশ ও ১০টির মতো খাতে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। ১৯৯১ সালের আইনে ইট, রড, এলপিজিসহ যেসব পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালুতে ভ্যাট দিতে হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার হবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে নতুন করে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হতে পারে আবাসন, জুয়েলারি, সিরামিকস, প্লাস্টিকসহ বেশকিছু পণ্য ও সেবায়।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত রেখে পুরনো আইনের মাধ্যমে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। নতুন আইনটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর না হলে বিকল্প হিসেবে ১৯৯১ সালের আইনে এসআরওর মাধ্যমে ভ্যাটের আওতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আগের আইনে ট্যারিফ সুবিধা পাওয়া পণ্যের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি ভ্যাটহার বাড়াতে হবে।
এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত কাজ শেষ করে এনেছে এনবিআর। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পুরনো বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের (বিআইএন) পরিবর্তে এরই মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ শুরু করে এরই মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধনও সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। নতুন আইন বাস্তবায়ন না হলে অনলাইন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে পুরনো পদ্ধতিতে ভ্যাট আহরণ করতে হবে। তবে সময় দিলে পুরনো আইনেও অনলাইনে ভ্যাট আহরণ সম্ভব বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক ও এনবিআর সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. রেজাউল হাসান বলেন, ভ্যাট অনলাইন প্রক্রিয়া নতুন আইনের জন্য করা হয়েছে। পুরনো আইনের যে পদ্ধতি, তা অনলাইনের জন্য অত্যন্ত জটিল। তবে সময় দিলে পুরনো আইনের মধ্যেই অটোমেশন প্রক্রিয়া নিয়ে আসা যাবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন ভ্যাট আইন অত্যন্ত জটিল ও অস্পষ্ট। আগের আইনের ট্যারিফ ভ্যালুর পণ্য ও প্যাকেজ ভ্যাট নিয়ে এ আইনে কিছু বলা হয়নি। সব পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেয়া সম্ভব নয়। আইনটিতে আরো সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের আপত্তির মধ্যেই ১ জুন অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। যদিও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের ব্যবসার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করেই ভ্যাট আইন প্রণীত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য হিসাব সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও ১৫ শতাংশ একক ভ্যাটহার বাংলাদেশে সম্ভব নয়।
এদিকে ভ্যাট আইন স্থগিতের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবে বর্ধিত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারেও কাজ করছে এনবিআর। প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্ক পাঁচটির পরিবর্তে ছয়টি স্ল্যাবে ভাগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম স্ল্যাবে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক শূন্য বহাল থাকছে। ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নতুন একটি স্ল্যাব করে এ শুল্ক ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ৫ লাখের ঊর্ধ্ব থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে ৫০০ টাকা। এর বাইরে ১০ লাখের ঊর্ধ্ব থেকে ১ কোটি পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা, এক কোটির ঊর্ধ্ব থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ৫ কোটি ঊর্ধ্বের হিসাবের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকার আবগারি শুল্ক বহাল রাখা হচ্ছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি-এর সর্বশেষ

প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি

সম্পাদক : আবু জাফর সূর্য

কপিরাইট © 2019 পলিটিক্সবিডি.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com