২ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ইংরেজি, ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Find us on facebook Find us on twitter Find us on you tube RSS feed
প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি
20 May 2015   06:46:01 PM   Wednesday BdST A- A A+ Print this E-mail this

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়নে

বাজেট ভাবনা: ড.এম শামসুল আলম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়নে বাজেট ভাবনা: ড.এম শামসুল আলম

সম্প্রতি টিভি টক-শোতে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টার সাথে আমরা কয়েক জন এক আলোচনায় ছিলাম। তাঁর বক্তব্যের শুরুতে তিনি বললেন, চাহিদা মাফিক আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। গত ৬ মে ৭ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট উৎপাদন করে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনে রের্কড স্থাপন করেছি। উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করেছি ১১ হাজার ২০৩ মেগাওয়াট। এ বক্তব্যে মনে হতে পারে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এ এক নজিরবিহীন সফলতা।

গত ১৪ মে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য বাজেটে ১ লাখ ৯৯৬ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) প্রস্তাব একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। গত অর্থবছরে ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। অনুমোদিত এডিপি’র ওই প্রস্তাবে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বরাদ্দ রইল ১৬ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে এ বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। ফলে প্রবৃদ্ধি হবে ৭৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বাজেটে এমন বরাদ্দ বৃদ্ধি ভাবা যায় না। সুতরাং বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান তথা বিদ্যুৎ ঘাটতি পুরণে এ বাজেট এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মনে হতে পারে।

প্রস্তাবিত এডিপি’তে জ্বালানী খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। চলতি বছর বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ২২২ কোটি টাকা। তাতে প্রবৃদ্ধি হবে (-) ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল (-) ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এসব তথ্য ও প্রমানে প্রতিয়মান হয়, এডিপি’তে বিদ্যুৎ খাতে ক্রমবর্ধমান হারে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জ্বালানী খাতে হ্রাস পাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন জ্বালানী খাত উন্নয়নের সাথে ধারাবাহিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং অসম। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত অসম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের মধ্যে আছে। এমন অসংগতি ভাবায়।
    
প্রতি বছরের মত এবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়নে বাজেটের ভূমিকা নিয়ে লেখার অনুরোধ ছিল। সময়ের অভাবে লেখাটি যথা সময়ে হয়ে ওঠেনি। শুক্রবার ছুটি দিন অফিস খুলে বসেছি সকাল দশটা থেকে। দু’বার বিদ্যুৎ চলে গেছে। দীর্ঘ সময় আসেনি। আমি সরাসরি কম্পিউটারে কম্পোজ করি। শুরু করতে পেরেছি দুপুর একটায়। এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিশেষ করে গরমে মানুষ মেনেই নিয়েছে। কিন্ত জ্বালানী উপদেষ্টার ওপরে বর্ণিত বক্তব্য ভাবনায় ফেলেছে। ভাবনায় পড়েছি যেমন জ্বালানী উপদেষ্টার বক্তব্যে, তেমন বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে।

এডিপি প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে দক্ষতার অভাব এবং সামগ্রিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও এডিপি’তে নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রবণতা বেশী। ফলে প্রকল্প সংখ্যা বাড়ে। মোট বরাদ্দ বাড়লেও প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ চাহিদামাফিক বাড়ে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়। ব্যয় বৃদ্ধি পায়। বরাদ্দ বৃদ্ধি ব্যয় বৃদ্ধি সমন্বয়ে ব্যবহার হয়, প্রকল্পের অগ্রগতিতে কাজে আসে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়নে এডিপিতে গৃহীত প্রকল্পসমূহও এমন পরিস্থিতির শিকার। এছাড়াও প্রকল্পে অর্থ সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে অর্থ সরবরাহকারী উৎসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, বিবিয়ানায় ২দ্ধ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বিনিয়োগ সংকটে পড়ায় বাতিল হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের মত জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়ন সরকারি খাতে রেখে করা হলে এ ধরণের ঝুঁকি কমে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপি’তে অন্তর্ভূক্ত প্রকল্প ৯৯৮টি। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে ৯৫৬টি। অর্থাৎ নতুন প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত খুব কম হলো। ফলে আগামী অর্থবছরে এডিপিভূক্ত বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং বরাদ্দ বেশী হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থপ্রবাহ ঝুঁকিতে থাকবে না। তবে প্রাথমিক জ্বালানী প্রবাহ সংকটে থাকায় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও বিদ্যুৎ প্রবাহে ঝুঁকি বাড়বে।      

প্রস্তাবিত এডিপি’র বরাদ্দে পরিবহণের পরেই গুরুত্ব পাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। এ বরাদ্দের বেশীর ভাগই বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর। তাতে ধরা হয়েছে সরকারের ব্যয় ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা ৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। তাছাড়া আগামী অর্থ বছরের জন্য এডিপি’তে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভূক্তির নীতিমালা মতে একান্ত অপরিহার্য এবং উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত না হলে সরকারি অর্থায়নে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প এডিপিভূক্ত হবে না। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন অগ্রাধিকার পাবে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ পরিকল্পনা মেয়াদে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ ধরা হয় ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। তার মধ্যে ব্যক্তি খাত বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা ছিল  ৮০০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ খাতে ব্যক্তি খাত বিনিয়োগ আকর্ষিত হতে হবে। সেই বিবেচনায় বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধির লক্ষ্যও নির্ধারিত হয় ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। নির্দ্বিধায় বলা যায়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের মধ্যেও এ লক্ষ্য থাকবে।

লক্ষ্য ছিল, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ৫০০ কোটি ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ। অথচ সে বিনিয়োগ এসেছে ২৮ কোটি ডলার মাত্র। এই বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যে প্রকল্পগুলি নির্দিষ্ট করা হয়, সেগুলির মধ্যে বিবিয়ানা (৪৫০ মেগাওয়াট), মেঘনাঘাট (৪৫০ মেগাওয়াট), ভোলা (১৫০-২২৫ মেগাওয়াট), সাভার (১০০ মেগাওয়াট), কালিয়াকৈর (১০০ মেগাওয়াট) এবং আমদানীকৃত কয়লাভিত্তিক খুলনা (১৩২০ মেগাওয়াট) ও চট্টগ্রাম (১৩২০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পসমূহ। এসব কোন প্রকল্পেই বিদেশী বিনিয়োগ আাসেনি। এসব প্রকল্পে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ২০০৯ সালে লন্ডনে রোড শো হয়। এর পর বিভিন্ন দেশে আরো ৫টি রোড শো হয়। কিন্তু কোন কাজে আসেনি। বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ সংকট কাটেনি। প্রস্তাবিত এডিবি’তে অস্বাভবিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ এখানেই। এ বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় গৃহীত আপাতকালীন কৌশল মাত্র। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়ন পথনকশায় গৃহীত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হলে ২০১৫-১৬ অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে তেল-বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯০২ কোটি ইউনিট থেকে কমে হতো ৩৫২ কোটি ইউনিট। কয়লা-বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯১ কোটি ইউনিট থেকে বেড়ে হতো ৪০৪ কোটি ইউনিট। আগামী অর্থবছরের এডিপি’তে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বরাদ্দের এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতো না। বরং জ্বালানী খাতের মত বিদ্যুৎ খাতের এডিপি বরাদ্দও ক্রমাগত হৃাস পেতো। এ বৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নীতি ও কৌশল ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক, তারই প্রমান।

দেশ প্রাথমিক জ্বালনী সংকটে আছে। গ্যাস সংযোগ বন্ধ আছে। অথচ অবৈধ সংযোগ থেমে নেই। শিল্প গ্রাহদের বাড়তি চাহিদা রয়েছে দিনপ্রতি ৩০০ এমএমসিএফটি। পাবে ১০০ এমএমসিএফটি। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চহিদা মাফিক গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। গ্যাসের বিকল্প হিসাবে তরল জ্বালানী চাহিদা শিল্প ও পরিবহনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেড়েছে। জ্বালানী মিশ্রণে গ্যাসের পাশাপাশি তরল জ্বালানী ব্যতিত অন্য কোন জ্বালানীর সংস্থান হয়নি। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাস হোক কিংবা তরল জ্বালানী হোক, কোন জ্বালনীর সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। জ্বালানী সংকট উপসম হয় না। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বড় ও মাঝারি শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষিত হয় না। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় গ্রীড বিদ্যুতের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এবং গ্রীড বিদ্যুৎ বন্টন ও মূল্যহার বিন্যাসে বড়, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য উপসম না হওয়ায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। এসব বিষয় প্রস্তাবিত বাজেটে গুরুত্ব পায়নি। সরকারি বিনিয়োগে জ্বালানী খাত উন্নয়নে সরকার অনাগ্রহী হওয়ায় এডিপি’তে একদিকে বরাদ্দ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশী বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত ও অনিশ্চিত। ফলে জ্বালানী খাত উন্নয়ন বিনিয়োগ সংকটে আছে।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক (১৯৯০-৯১ থেকে ১৯৯৪-৯৫) পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, উত্তোলনযোগ্য যতটুকু গ্যাস অবশিষ্ট আছে, তা থেকে আগামীতে আর কোন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। অথচ উত্তোলনযোগ্য মজুদ গ্যাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়াই বিগত ২০ বছর ধরে গ্যাস খাত উন্নয়ন চলছে। বিদেশী বিনিয়োগে জলে-স্থলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জলে নয়, স্থলে সরকারি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে সে সুযোগ খুবই সীমিত। দেশীয় কোম্পনী বাপেক্স গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে নিয়োজিত। সরবরাহকৃত গ্যাসে তার গ্যাসের অনুপাত মাত্র ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। তাছাড়া গ্যাস সঞ্চালনে কোন কোন ক্ষেত্রে আইওসি’র মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগ হয়। আবার এ বিনিয়োগ গ্যাসের সরবরাহ ব্যয় যেমন অত্যাধিক বাড়ায়, তেমন ঝুঁকিপূর্ণও।

নীতিগত বিবেচনায় সরকারি খাতে জ্বালানী খাত উন্নয়ন সরকার অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। ফলে কয়লা খাতে সরকারি বিনিয়োগ নেই। আবার বিনিয়োগকারী জন্য রপ্তানীসহ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সুযোগ না থাকায় এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আসে না। বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনায় ব্যক্তি খাত কর্তৃক আমদানীকৃত কয়লায় ব্যক্তি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা রয়েছে। আবার ব্যক্তি খাত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তেল আমদানী ব্যক্তি খাতে হচ্ছে। এসব কারণে এডিপি’তে জ্বালানী খাত উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সরকারের নীতিগত অবস্থানের কারণে জ্বালানী খাত উন্নয়নে এডিপি বরাদ্দ হৃাস পাচ্ছে। আবার বিদেশী বিনিয়োগের নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রাথমিক জ্বালানী সংকট মুক্ত হয় না।

গ্যাস খাত লাভে আছে। সম্পদমূল্য হিসাবে পৃথকভাবে প্রতি একক গ্যাসে ২৫ টাকা হিসেবে ভোক্তাদের নিকট থেকে বছরে ২ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে আগামী অর্থ বছরে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে পাওয়া যাবে সুদসহ ১ হাজার কোটি টাকা। শুল্ক-ভ্যাট, করপোরেট কর ও ডেভিডেন্ট বাবদ সরকার পাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থা ও কম্পানীর নামে এফডিআর হিসেবে ব্যংকে সঞ্চয় রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সংস্থা ও কম্পানীর নামেও এফডিআর হিসাবে সঞ্চয় রয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এসব উৎসকে বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়নে বিনিয়োগের উৎস গণ্য করা হলে বিদেশী বিনিয়োগ বা ব্যক্তি খাত বিনিয়োগের মূখাপেক্ষী হতে হয় না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত বিনিয়োগ সংকটে থাকে না। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে বিদেশী বা ব্যক্তি খাত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না।    
    
জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যয় হয়েছিল ২০১২-১৩ অর্র্থবছরে জ্বালানী তেলে ১৩ হাজার ২৩০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুতে ৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয়েছিল তেলে ৭ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুতে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরে ধরা হয় তেলে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা এবং বিদ্যুতে ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণে তেল আর্থিক ঘাটতিতে নেই। লাভে আছে। ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির শর্তে ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ভর্তুকিসহ পাইকেরি বিদ্যুতের মূল্যহার ৪ দশমিক ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে বছর প্রবৃদ্ধি হয় ১০ শতাংশের কম। ফলে ১০ শতাংশেরও বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় সাশ্রয়ী অর্থে ঘটতি সমন্বয় হয় এবং অর্থ উদ্বৃত্ব থাকে। ফলে চলতি অর্থবছরে এডিপি’র বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের আর্থিক ঘাটতি মোকাবেলার ঝুঁকি ছিল না। আগামী অর্থবছরেও জ্বালানী খাত লাভে থাকবে। ব্যক্তি খাত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানী তেলের ন্যায় সরকারি খাত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তেল শুল্ক-ভ্যাট মুক্ত হলে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন বিদ্যমান মূল্যহারে সমন্বয় হলে বিদ্যুৎও লাভে থাকতো। ৫ হাজার ২০ কোটি টাকা ঘাটতির অজুহাতে ৪ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দেখিয়ে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের পাইকেরি মূল্যহার বৃৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি করা যেতো না। জনস্বার্থনসম্মত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়ন উপযোগী না হলেও আগামী অর্থবছরের বাজেটভূক্ত এডিপি ব্যক্তি খাত বিনিয়োগকারীর জন্য পর্যাপ্ত মুনাফা লাভের সুযোগ সৃষ্টির উপযোগী হবে।
লেখক : জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ও ডীন, ইঞ্চিনিয়ারিং বিভাগ,ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মতামত-এর সর্বশেষ

প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জাতীয় পার্টি বামদল অন্যান্য দল প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন শ্রমিক রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি
সারাদেশ নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্ব রাজনীতি উন্নয়ন ও সংগঠন অন্যান সংবাদ প্রবাস সাক্ষাতকার বই মতামত ইতিহাস অর্থনীতি

সম্পাদক : আবু জাফর সূর্য

কপিরাইট © 2019 পলিটিক্সবিডি.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com